সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে-প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,ফাইল ছবি

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর এই নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের আমলে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে যেমন উন্নয়ন হচ্ছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যাচ্ছি। তাছাড়া আমরা বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অবদান রেখে যাচ্ছি।’

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ডিপ্লোম্যাটিক এক্সিলেন্স পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ আল মেহরি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলম (অব.) এবার পদক পান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন পদক তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের নির্যাতনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। আমি আশা করি, বিশ্বের সব মানুষের শান্তি ও মানবাধিকার যেন রক্ষা পায়, এ ক্ষেত্রে সবাই আমাদের সহযোগিতা করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। এটা আমাদের নীতি ও আদর্শ। জাতির পিতা আমাদের যে আদর্শ ও সংবিধান দিয়ে গেছেন, সেখানে আমাদের যে চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই নীতি মেনেই দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশের দরিদ্র মানুষকে আর দরিদ্র থাকতে দেবো না। মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে মুক্ত হবে। উন্নত, সমৃদ্ধ জীবন পাবে। জাতির পিতার সেই পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আদর্শ ধারণ করছি। স্বাধীনতার লক্ষ্য ও আদর্শ অর্জন করার জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ফসল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছাবে। দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও উন্নত জীবন পাবে। এটাই ছিল জাতির পিতার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। এটাই আমাদের বড় অর্জন। আমরা বাংলাদেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি আমরা অর্জন করবো ২০৩০ সালের মধ্যে। পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ।’

তিনি বলেন, ‘আমার জন্মদিনে কোনও বই কিংবা চাওয়া পাওয়া নেই। আমি কিছুই চাই না। আমার জন্য কিছু করা হোক এটাও কামনা করি না। কারণ আমি জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছি। আমার কোনও চাওয়া পাওয়া নেই। কারণ আমিতো আমার বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি একটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যত কষ্ট, আঘাত, বাধা আসুক না কেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছে। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত। দারিদ্র ও মঙ্গা বলতে দেশে কিছু থাকবে না। দেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং উন্নত জীবন পাবে, সেটাই আমার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য স্থির রেখেই আমার পথ চলা। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। ইনশাআল্লাহ একদিন উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে মেরিটাইম বাউন্ডারি নিয়ে আইন করে যান। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে সমুদ্রসীমা নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত দিয়ে যান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরে যে সরকারগুলো এসেছিল, তারা এই ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে কীভাবে এই সমুদ্রসীমা বাস্তবায়ন করতে পারি তার ব্যবস্থা নিই। আমরা আনক্লজ সই করি। দ্বিতীয়বার সরকারের আসার পরে আমাদের প্রচেষ্টা এই সমস্যা সমাধানের। ঠিক যেভাবে ভারতের সঙ্গে আমরা সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। যেটা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি। সেই সঙ্গে সঙ্গে মেরিটাইম বাউন্ডারি নিয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেও আমরা মেরিটাইম বাউন্ডারি সমস্যার সমাধান করেছি। এটা আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই।’

পদক বিজয়ী দুই জনকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রতি বছর এই পদক প্রদানের মাধ্যমে আমাদের কূটনীতিকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অনুপ্রাণিত হবেন। পাশাপাশি আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কূটনীতিকরাও তাদের স্ব স্ব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন শিখরে উন্নীত করতে উৎসাহিত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকুক। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা যেখানে ক্ষুধা ও দারিদ্র থাকবে না। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দূর হবে। উন্নত জীবন পাবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION